
পুলিশ কমিশনকে দুর্বল করার মাধ্যমে সরকার ফ্যাসিবাদের পথে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নিয়মিত বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ।
তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও পুলিশকে গণবিরোধী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করেছিল। এ লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি উঠেছিল, যা পুলিশের সংস্কারে ভূমিকা রাখবে এবং বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখবে।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকেই পুলিশ কমিশনকে দুর্বল করার চেষ্টা শুরু হয় এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কমিশনের ক্ষমতা আরও খর্ব করছে। প্রণীত অধ্যাদেশে সংশোধন এনে কমিশনকে দুর্বল করে সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
একইসঙ্গে তিনি দাবি জানান, পুলিশকে আধুনিক, স্বাধীন ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে। তার মতে, পুলিশ বাহিনী যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে, তবে দেশে নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী মোস্তফা কামাল, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট বরকতুল্লাহ লতিফ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন এবং ডা. শহিদুল ইসলাম।



