
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিজয় সরণির একটি পাম্পে তেল নিতে আসা যানবাহনের সারি গিয়ে ঠেকেছে মহাখালী পর্যন্ত।
রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এমন আশা থাকলেও ঈদের ছুটির মধ্যেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অনেক পাম্পে তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো খোলা আছে সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। বাড্ডা লিংক রোডের একটি পাম্পে ‘তেল নেই’ লিখে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, খোলা পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে।
মক্কা পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক চালক জানান, দেড় ঘণ্টা লাইনে থেকেও এখনো অনেক পেছনে রয়েছেন তিনি। একইভাবে ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনেও ঈদের দিন থেকে কয়েকগুণ বেড়েছে যানবাহনের চাপ। শনিবার (২১ মার্চ) যেখানে লাইন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত ছিল, রোববার (২২ মার্চ) তা জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে যায়, আর সোমবার (২৩ মার্চ) গিয়ে পৌঁছায় মহাখালী পর্যন্ত।
তেল নিতে আসা চালকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল পাওয়া অনিশ্চিত। অনেকেই বলছেন, অফিস খোলার আগে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় আরও বাড়ছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে যেসব পাম্প চালু আছে সেগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আগেই সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে যে কোনো সময় দেশের পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজধানীতে তেল সংকট ঘিরে ভোগান্তি বাড়ছে, আর দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
আরবিএ/আরটিএনএন



