
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা সাধারণ আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে ভাষণকে ঘিরে বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছে, সেই বক্তব্য নিয়েই দীর্ঘ সময় আলোচনা সংসদের ব্যয় বাড়াবে।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ সম্পন্ন করেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বিষয়েও আলোচনা হবে।
বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর এত দীর্ঘ সময় আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। হিসাব অনুযায়ী, ৫০ ঘণ্টা আলোচনায় সংসদ সদস্যরা গড়ে প্রায় ১২ মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায় সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা ব্যয় হয়।
সে হিসাবে ৫০ ঘণ্টা অর্থাৎ ৩ হাজার মিনিট আলোচনায় সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ কোটির বেশি টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-পানি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আপত্তি থাকলেও সংসদের রেওয়াজের কথা বলে আবার সেই বক্তব্যের ওপর দীর্ঘ আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি এটি ফ্যাসিবাদকে স্বাভাবিক করার অপচেষ্টা।
তবে তিনি জানান, আলোচনা হলে বিরোধী দলও সেখানে অংশ নেবে এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরবে।
সংবিধানের ৭৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের নীতি, কর্মপরিকল্পনা এবং বিভিন্ন খাতের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে মতামত দেন।
উল্লেখ্য, উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন এবং পরে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্য শেষ করেন।



