
গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও ওই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও সংসদে বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই নীতিকে সামনে রেখে কাজ করছে। দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ এবং ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতি বছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাষণে সামাজিক, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর চিত্র তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বক্তব্য শেষ করে তিনি সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন। পরে স্পিকার অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান। স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য শুরু করেন। সংসদ কক্ষে তখন বিরোধী দলের সদস্যদের হট্টগোল চলছিল।



