জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা।ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব সিনিয়র সচিব/সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার ও সব জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই অবস্থায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হওয়া জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং সচেতন নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্যাস ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা

প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় রোধে নির্দেশনায় বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। তা হলো-

১. রান্না ও অন্যান্য কাজে গ্যাসের সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

২. গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পুরোপুরি পরিহার করতে হবে।

৩. গ্যাস পাইপলাইন ও বার্নার নিয়মিত পরীক্ষা করে লিকেজজনিত অপচয় বন্ধ করতে হবে।

৮. অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন ও জ্বালানি তেল সাশ্রয়

জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাতে যাতায়াত ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পরামর্শগুলো হলো-

১. ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

২. একই গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কার-পুলিং (একাধিক ব্যক্তি মিলে একটি গাড়ি ব্যবহার) ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

৩. অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত যতটা সম্ভব সীমিত বা পরিহার করতে বলা হয়েছে।

অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের করণীয়

সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরগুলোতে অফিস চলাকালীন এবং অফিসের পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানগুলোকে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে এবং সাশ্রয়ী আলোকসজ্জা ও এসি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। জাতীয় স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় এই মুহূর্তে সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য বলে মনে করছে সরকার।