পুলিশ, পোশাক, নতুন, পুরাতন, জাতীয়,
অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের মত পুরোনো পোশাকের পক্ষে।ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্য আগের গাঢ় নীল (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) ইউনিফর্মে ফিরে যেতে চান। এক জরিপে দেখা গেছে, ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন পুলিশ সদস্য আগের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানের লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) রঙের প্যান্ট রাখতে চান মাত্র ৯১১ জন সদস্য।

বুধবার (৪ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে মোট প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য কর্মরত আছেন। তাদের মতামত জানার জন্য গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন রেঞ্জের সদস্য মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন সদস্য অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী সদস্যদের কাছে লিখিত ফর্মের মাধ্যমে ইউনিফর্ম নিয়ে মতামত নেওয়া হয়। সেই মতামত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ সদস্য আগের নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর এলাকায় সবুজ (গ্রিন) শার্টের সঙ্গে গাঢ় প্যান্টের ইউনিফর্মে ফিরে যেতে চান। অন্যদিকে ২ হাজার ৮১৭ জন সদস্য ভিন্ন রঙের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা মোটের ওপর ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর পুলিশের ইউনিফর্ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এদিকে বুধবার ঢাকার ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন—পোশাক পরিবর্তন করলে পুলিশের মানসিক পরিবর্তন হবে কি না।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারির গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের আগের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় দেশের আবহাওয়া, দিন-রাতে দায়িত্ব পালনের সুবিধা, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে পোশাকের পার্থক্য—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচিত নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় এবং পুলিশ সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। এমনকি এই পোশাকের সঙ্গে অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের আলাদা করে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ কারণে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।