
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশের ওপর যে নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে ঢাকা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে ওয়াশিংটনকে।
বুধবার (৪ মার্চ) সফররত মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী Paul Kapur-এর সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, “পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট গুরুত্ব পেয়েছে। আমি তাঁর কাছে উল্লেখ করেছি, আমাদের দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, সাতজন আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ দীর্ঘতর বা বিস্তৃত হলে এই শঙ্কা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আমাদের মতো দেশের পক্ষে এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া বহন করা দুঃসাধ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাঁকে বলেছি, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে এই সংঘাত ও সমস্যার সমাধানে যেন তারা চেষ্টা করেন।”
যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে—এ বিষয়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু বলেছেন কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে, সেটা তো সম্পূর্ণ তাঁদের হাতেও নেই। এটা কেউ বলতে পারবে না।”
“যুদ্ধ তো তারা শুরু করেছেন”—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “না, না—এটা কোনো প্রশ্ন হতে পারে না।”
পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ প্রথম—এই নীতিতে আমরা চলব। আমাদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে বজায় রেখে অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র কার্যক্রম পরিচালনা করব—এ কথা আমরা তাঁকে বলেছি। কাপুর আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করেছেন যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও বিস্তৃত হবে।”
মন্ত্রী বলেন, “আমরা বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিরা যারা আমেরিকায় আছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কথা বলেছি। প্রক্রিয়াটি যাতে সহজ হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তাঁরা যেন আসতে পারেন, সে বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গা বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে একমত যে, এ বিষয়ে এখন সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে। আমি আনন্দিত যে, তারা এ বিষয়ে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন।”



