
সীমান্তে বিএএফ’র বর্বরতার শিকার আলোচিত ফেলানী হত্যাকান্ডের বিচার থমকে আছে বহুদিন। এমনকি মামলার সর্বশেষ অবস্থা কী, তাও জানেন না ফেলানীর মা-বাবা। যা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার ছবি ফুটিয়ে তোলে।
এ অবস্থায় ফেলানীর হত্যা দিবস (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় আসেন তার বাবা নুর-ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তারা। ডাকসুসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাশে থাকার আশ্বাস পেলেও বিচার পাইয়ে দেবার বাণী কেউ দিতে পারে নি।
সেদিন সন্ধ্যায় অ্যাক্টিভিস্ট ও তরুণ সংগঠক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসান জিহাদী এনসিপি’র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ফেলানীর পরিবারসহ হাসান জিহাদীকে তার বাসভবনে দাওয়াত করেন।
সেখানে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন- “পাখির মতো গুলি করে মারলো আমার মেয়েরে, আওয়ামী লীগ সরকার কোনো বিচার করলো না, এখন আইনজীবী আব্রাহাম লিংকনও পলাতক। ভারতের সুপ্রিমকোর্টে রিট করেছি, সেটার খবরও জানি না, এই সরকারও আমাদের কোনো সহায়তা করে না”।
এই সময় নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ফেলানীকে নিয়ে তাদের করা বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তার পরিবারের সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ফেলানীর বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন তিনি। ফেলানীর পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ ইসলাম।
কাজের ছুটিতে দিল্লি থেকে দেশে ফেরার পথে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর-দিনহাটা সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। তখনও জীবিত থাকা কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানীর গুলিবিদ্ধ দেহ নামাতে গেলে তার বাবাকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে বিএসএস।
প্রায় পাঁচঘণ্টা এভাবেই ঝুলিয়ে রেখে ফেলানীর মৃত্যু নিশ্চিত করে বর্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা। ফেলানীর কাঁটাতারে ঝুলে থাকার ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এতে বিচার বসাতে বাধ্য হয় ভারত।
২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। তবে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় আদালত। রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনর্বিচারের আবেদন করেন ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালে আবার বিচার শুরু হলেও ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালত আবারও অমিয় ঘোষকে খালাস দেন।
পরে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন 'মাসুম' এর সহায়তায় ২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন ফেলানীর বাবা। কয়েক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির দিন ধার্য ছিল, কিন্তু করোনার কারণে তা আর হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পায়নি পরিবার।



