
জ্বালানি সংকটের কারণে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আবারও শিশু-কিশোরদের হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব তুলে দিতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এতে যেমন শেখার সুযোগ বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্বেগও।
স্মার্টফোন শুধু পড়াশোনার মাধ্যম নয়-এতে রয়েছে গেম, বিভিন্ন অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজ প্রবেশাধিকার। তাই সন্তানের হাতে ডিভাইস দেওয়ার আগে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
সময় ব্যবহারে নজর রাখুন
অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে অনেক শিশু দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করে। ক্লাস শেষে গেম বা ভিডিওতে সময় কাটালে ঘুম, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া জরুরি।
কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে দেখুন
সন্তান কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে তা অভিভাবকদের জানা উচিত। ক্লাসের নামে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কতা
কম বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ঝুঁকি থাকে। অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ, অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট দেখা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনে এসব অ্যাপ সীমিত বা বন্ধ রাখা ভালো।
অনলাইন নিরাপত্তা শেখান
শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক নিরাপত্তা শেখানো জরুরি। যেমন: অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা না বলা, ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন
বর্তমান স্মার্টফোনে স্ক্রিন টাইম ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে অ্যাপ ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করা যায় এবং শিশুর কার্যক্রমে নজর রাখা সহজ হয়।
পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করুন
অনলাইন ক্লাসের সময় শিশুকে এমন জায়গায় বসান, যেখানে পরিবারের নজর থাকে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে এবং অন্য কাজে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ কমে।
অফলাইন কার্যক্রমে উৎসাহ দিন
স্মার্টফোন নির্ভরতা কমাতে বই পড়া, খেলাধুলা বা সৃজনশীল কাজে শিশুদের উৎসাহিত করুন। এতে মানসিক বিকাশ ভালো হয় এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমে।
অনলাইন ক্লাস আধুনিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর সঙ্গে থাকা ঝুঁকিগুলো বুঝে চলা জরুরি। অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত নজরদারিই পারে শিশুদের নিরাপদ রেখে প্রযুক্তিকে কার্যকর শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে।



