পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার
পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও চলমান উত্তেজনা নিরসনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ শনিবার ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে আলোচনার প্রথম দফা শুরু হবে।

আলোচনাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায় বলে জানা যায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর মাত্র পাঁচ সপ্তাহে ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ে।

এরপর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল। তার আগেই স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে এই আলোচনা শুরু হচ্ছে ইসলামাবাদে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই আলোচনা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ উভয় পদ্ধতিতেই হতে পারে। প্রথম ধাপে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে, পরে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আলোচনার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হবে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা নিশ্চিত করা। তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় উন্মুক্ত করা।

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবে রয়েছে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

এই আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি দেশবাসীকে এই আলোচনার সফলতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কূটনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে আলোচনার ফলাফলের ওপর।