ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগায়ি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগায়িছবিঃ ফাইল ছবি।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে পাকিস্তান একটি প্রস্তাব পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যৎ হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তাই যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে তারা ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান’ চায়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ‘অযৌক্তিক’ এবং অগ্রহণযোগ্য।

বাঘাই জানান, ইরান আগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সময়সীমা নির্ধারণ বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে কোনো আলোচনায় বসা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে আলোচনা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শত্রুপক্ষকে শক্তি পুনর্গঠন করে পুনরায় হামলার সুযোগ দেয়। “কোনো সুস্থ ব্যক্তি এমন প্রস্তাব মেনে নেবে না,”— যোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি জাতিসংঘের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। বাঘাই দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাটি প্রায়ই শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে তেহরান।

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ইরান তাদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

এর আগে সংঘাত নিরসনে একটি রূপরেখা তৈরি করে রোববার রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তা বিনিময় করে পাকিস্তান। ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত ওই প্রস্তাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং একটি বিস্তৃত সমঝোতার জন্য দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তীতে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে দুপক্ষের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও রাখা হয়।

সূত্র: তাসনিম নিউজ, আলজাজিরা