
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য যুদ্ধে জড়াবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। বুধবার (১ এপ্রিল) লন্ডনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক ব্রিটিশ নাগরিক উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাজ্যকে ইরান যুদ্ধের মধ্যে টেনে নেয়া হতে পারে। কিন্তু আমরা যুদ্ধে জড়াব না। এই মুহূর্তে দেশবাসী প্রত্যাশা করে স্পষ্ট ও শান্ত নেতৃত্ব, আর আমরা সেটিই নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি ব্রিটিশ জনগণকে আবারও একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এই কথা বলতে প্রস্তুত নই। হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য হলো নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা, জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরী পণ্যের চলাচল পুনরায় শুরু করা।
যুক্তরাজ্য ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলার জন্য সরকার একটি পাঁচ-দফা পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি বিল কমানো, জ্বালানি শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা।
একই বক্তব্যে স্টারমার জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ৩৫টি দেশকে একত্রিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোকে নিরাপদ রাখা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলমান রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ব্রিটেনের এই অবস্থান একদিকে যেমন সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি কমাতে চায়, অন্যদিকে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার কৌশলও স্পষ্ট করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।



