ইরান যুদ্ধ থামাতে একজোট ৪ মুসলিম দেশ
ইরান যুদ্ধ থামাতে একজোট ৪ মুসলিম দেশছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে চার মুসলিম দেশ একজোট হয়ে পাকিস্তানে বৈঠক করেছে। মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করেছেন। কূটনীতিকরা এই বৈঠককে কেবল যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতের কৌশলগত জোট গঠনের সূচনাও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ান

বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সব পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানে নিয়ে আসা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইতিমধ্যেই ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উভয়পক্ষের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের উপসাগরীয় বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন ফারুক বলেছেন, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পানি শোধন কেন্দ্রে হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বৈঠকের একটি বড় অর্জন হলো হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের নমনীয়তা। তেহরান এখন পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দিনে দুটি জাহাজের চলাচল অনুমোদন দেওয়া হবে। কূটনীতিকরা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘আস্থা তৈরির পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

এই চার দেশের জোট এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনিচ্ছুক, তাই মধ্যস্থতার ভূমিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি অবহিত করেছেন। সম্ভাব্য যে কোনো সমঝোতায় চীনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে বৈঠকে সব উপসাগরীয় দেশ অংশ নেয়নি। কাতার বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানও ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে একটি জটিল সমীকরণ রয়েছে একদিকে তারা ইরানের হামলার জবাব চাইছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা এড়াতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করাও প্রয়োজন।

এই জোটে তুরস্ক সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে বহুপাক্ষিক আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে তা কেবল চলমান যুদ্ধই থামাবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।