
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল অভিমুখে যাওয়া একটি মার্কিন সমরাস্ত্রবাহী বিমানকে ফ্রান্সের আকাশপথ ব্যবহার করতে বাধা দিয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়ে ফ্রান্সের আচরণকে ‘অত্যন্ত নেতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, ফ্রান্স ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই বিমানগুলোকে তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়তে দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি একটি বড় ধরণের অসুবিধার কারণ হয়েছে, বিশেষ করে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ‘কসাইকে’ (কাসেম সোলাইমানি) সফলভাবে নির্মূল করার প্রক্রিয়ায়।
ট্রাম্প লিখেছেন, এই অভিযানের সময় ফ্রান্সের সহযোগিতা অনুপস্থিত ছিল এবং তারা অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এর আগে ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন স্পেন ও ইতালি, মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় তাদের আকাশপথ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল। এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে থাকে এবং সামরিক সহযোগিতায় জটিলতা সৃষ্টি করে।
ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরই ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্রান্সের এমন কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সামরিক আকাশপথের ব্যবহারে বাধা কেবল সামরিক অপারেশনের উপর প্রভাব ফেলে না, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককেও চাপের মধ্যে ফেলতে পারে। বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



