চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছেন, অঞ্চলটিতে সংঘাত বন্ধ এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বেইজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং এর দীর্ঘায়িত হওয়ারও কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ। এ সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের দৃঢ় সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে আসছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা সংকট তীব্রতর হওয়ায় দেশটি আবারও যুদ্ধবিরতির পক্ষে সরব হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশলের অংশ হিসেবে চীন সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সামরিক সংঘাত ও শক্তির ভারসাম্যের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারকেও প্রভাবিত করছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি চীনও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার না নেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখা চীনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশটি সামরিক সমাধানের পরিবর্তে আলোচনাভিত্তিক সমঝোতা, যুদ্ধবিরতি এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চায় বেইজিং।