
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ) এই তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে এটি একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কর্মকর্তাদের বরাতে ডব্লিউএসজে জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে চালানো এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ট্যাঙ্কার বিমানগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এক কর্মকর্তা বলেন, "বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি এবং বর্তমানে সেগুলোর মেরামতের কাজ চলছে।" তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি।
অন্যদিকে, পশ্চিম ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, কোনো শত্রুপক্ষের হামলা (hostile fire) বা নিজেদের গুলিতে (friendly fire) বিমানটি বিধ্বস্ত হয়নি, বরং অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন অভিযানে এর আগে আরও সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। নতুন করে এই ছয়জনের মৃত্যু সেই তালিকায় যুক্ত হলো।
হতাহতের বিষয়ে নীরব থাকলেও যুদ্ধ বিষয়ে মুখ খুলেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, "যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা। গতকাল আমাদের কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা দেখলাম যে, যুদ্ধে খারাপ কিছু ঘটতেই পারে।"
সূত্র : রয়টার্স ও এনডিটিভি
আরটিএনএন/এআই



