
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাবানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন। প্রাণহানি এবং বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে এই যুদ্ধ এখন অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে; আর এই বাস্তবতায় দেওয়া তার এই বিবৃতিটি মূলত ইরান সরকার ও সাধারণ জনগণের বর্তমান মনোভাবেরই প্রতিফলন।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাগুলোকে ইরানি জনগণের প্রতি 'সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া' হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি ইরানিদের ধৈর্য ধরতে এবং তাদের দিকে ধেয়ে আসা সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো এবং তার ভাষায় একটি 'স্বৈরাচারী' শাসনব্যবস্থা থেকে ইরানিদের মুক্ত হতে সাহায্য করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কিন্তু এখন ইরানিরা চরম আতঙ্কে নিজেদের ঘরেই গুটিয়ে আছেন। বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, বিষাক্ত বৃষ্টি এবং এর পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেসালিনেশন) প্ল্যান্ট ও তেলের ডিপোসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ধ্বংসের কারণে তারা রাস্তায় বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। আমেরিকানরা তো এমন পরিণতি ডেকে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। আর অনেক ইরানি নাগরিকও ভাবেননি যে এমনটা ঘটবে।
আমরা জানি যে নিজেদের সরকারের বিষয়ে ইরানিদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভক্তি রয়েছে, কিন্তু এই মুহূর্তে ইরানের ভেতরে এই যুদ্ধকে সমর্থন করার মতো কোনো কণ্ঠস্বর নেই। এই সংঘাত সাধারণ মানুষের জন্য চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের এক বিশাল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই যুদ্ধে তাদেরই সবচেয়ে চড়া মূল্য চোকাতে হচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



