ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ভয়াবহ হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ তদন্ত করছে। টাইমস অব ইসরায়েল

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এটা ভয়াবহ ছিল। আমরা একটি ভুল করেছি। আমরা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করি না। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও গভীরভাবে দুঃখিত।

ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু শিক্ষার্থী। হামলার পরপরই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলের মধ্যে জন কেনেডিই প্রথম আইনপ্রণেতা, যিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় মার্কিন তৈরি ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, হামলাটি ইরান নিজেই বা ইসরায়েল ঘটিয়ে থাকতে পারে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানিকে গভীর উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তারা দ্রুত দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু সামরিক সংঘাত নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।