
ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব জেলায় একটি গার্লস স্কুলে ভয়াবহ হামলায় ১৬৮ জন স্কুলছাত্রী ও ১৪ জন শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এই নৃশংস হামলার একটি ভিডিও প্রকাশের পর দাবি উঠেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। নিকটবর্তী একটি নির্মাণস্থল থেকে ধারণ করা সেই ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুতগতিতে এসে স্কুল ভবনে আঘাত হানে। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ক্যামেরা ডানদিকে ঘোরানোর সময় শাজরেহ তাইয়িবা গার্লস স্কুলের দিক থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটেজে দেখা অস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই এই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছেন। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে আসছে।
বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সিএনএনের অনুসন্ধান, অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার সিএনএনকে বলেন, ভিডিওতে দেখা অস্ত্রটির গঠন মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে মিলে যায়। তার ভাষায়, ভিডিওতে মাঝখানে ডানা এবং পেছনে টেইলকিটসহ ক্রুশাকার গঠন স্পষ্ট দেখা যায়, যা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা অন্যান্য অস্ত্র বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন। তাদের মতে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে সাধারণত টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোন ভবনে আঘাত করেছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। সিএনএনের বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, এটি সম্ভবত ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পরিচালিত একটি মেডিক্যাল ক্লিনিকের ভেতরে বা তার পাশের কোনো স্থাপনায় আঘাত করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পরিচালনা করে। ইসরায়েল এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে না। এগুলো মূলত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়।
এর আগে স্যাটেলাইট চিত্র, ভৌগোলিকভাবে শনাক্ত করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সম্ভবত দায়ী হতে পারে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বেসামরিক শিক্ষার্থীদের মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।



