ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কখনোই বিনা মূল্যে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না। তেলের বাজার সবার জন্য উন্মুক্ত না করলে এর “চরম খেসারত” দিতে হবে বিশ্বকে। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া বার্তা দিলেন মোহাম্মদ রেজা আরেফ।  

সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আরেফ বলেন, একদিকে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে, অন্যদিকে ইরানের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হবে-এ ধরনের দ্বিচারিতা আর মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে-হয় সবার জন্য তেলের বাজার উন্মুক্ত করা, নয়তো জ্বালানি সংকটের বড় ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

আরেফের মতে, ইরানকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা সফল হবে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব অন্য দেশগুলোকেও ভোগ করতে হবে। তার দাবি, তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রত্যাহারের ওপর।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই চাপ স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। ইরান মনে করে, তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য এমন সময় এসেছে যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়।

ইরান যদি এই প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে সরে আসে বা অবরোধ কঠোর করে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আরেফের এই মন্তব্যকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য বড় ভূ-রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: আল জাজিরা