
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় এসেছে ইরানের জব্দ থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিষয়টি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি বৈঠকের আগে তেহরান তাদের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
একইসঙ্গে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করছে দেশটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান। ইরানের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৭৯ সাল থেকে শুরু
ইরানের সম্পদ জব্দ হওয়ার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন। এরপর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের সম্পদ আটকে রাখা হয়।
এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রির আয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদ।
রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি বলেন, ‘প্রাথমিক ও সতর্কভাবে করা হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের, তবে এই অংক আরও বাড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানি কর্তৃপক্ষের করা ক্ষয়ক্ষতির এই মূল্যায়নের মধ্যে ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষতি এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকার কারণে সৃষ্ট আর্থিক লোকসানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
কত টাকা জব্দ আছে?
ইরানের জব্দ থাকা মোট সম্পদের নির্দিষ্ট কোনো সরকারি হিসাব নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রথমে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করলেও পরে তা ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার বলে সংশোধন করেন। অন্যদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই অর্থ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং পরবর্তীতে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেটি আবারও কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়া তাদের জন্য “অপরিবর্তনীয় শর্ত”। এই শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশক ধরে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদের পরিমাণ দশ বিলিয়ন থেকে শত বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবি। ফলে বিষয়টি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা



