প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া যুদ্ধনীতি নিয়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া যুদ্ধনীতি নিয়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি।ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া যুদ্ধনীতি নিয়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ৫২-৪৭ ভোটে বাতিল হয়ে যায়, ফলে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই ইরান ইস্যুতে চলমান সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার পথ আরও শক্ত হলো।

ডেমোক্র্যাটদের এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা। তবে রিপাবলিকানদের অধিকাংশ সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি এখনও তার দলের ভেতরে দৃঢ় সমর্থন পাচ্ছে, যদিও সংঘাত শুরু হওয়ার পর ছয় সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেছে।

এই সংঘাতের সূচনা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায়। এরপর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তবে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি।

সিনেটের এই ভোটে কিছু ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল) দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবিরে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। এছাড়া ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জিম জাস্টিস ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ভার্জিনিয়ার সিনেটর টিম কেইন বিবিসিকে বলেন, ভোট সফল না হলেও এই প্রস্তাব জনগণকে বুঝতে সহায়তা করবে যে, এই যুদ্ধের দায় কার কাঁধে।

অন্যদিকে বেশির ভাগ রিপাবলিকান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। তবে তাদের কেউ কেউ বলেছেন, ৬০ দিনের সীমা অতিক্রম করলে তারা অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাউলি বলেন, প্রশাসন বর্তমানে যুদ্ধক্ষমতা আইনের শর্তের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই বুধবার তিনি প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।

তবে তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন সংঘাত কমিয়ে আনার প্রমাণ দিতে না পারে এবং ৩০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না নেয়, তাহলে তখন তিনি নতুন করে যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেবেন।

সূত্র: বিবিসি ও আল–জাজিরা