নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ছবি: সংগৃহীত

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় একাডেমি।

দিনের কর্মসূচির শুরু হয় সকাল ৮টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে বর্ষবরণ সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর সকাল সোয়া ৮টায় নববর্ষের বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং সকাল ৯টায় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুবর্ণ রজতদারের পরিচালনায় শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনায় বর্ষবরণ সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়।

আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। নববর্ষের বক্তব্য দেন ড. ওয়াকিল আহমদ এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম তার বক্তব্যে বলেন, নববর্ষ আমাদের চিরন্তন সংস্কৃতির অর্থপূর্ণ আবাহন এবং বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্তার বিকাশে এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. ওয়াকিল আহমদ বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বঙ্গাব্দ, খ্রিস্টাব্দ ও হিজরি এই তিন ধরনের বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়, এবং বাংলা নববর্ষ সেই ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের বর্ষবরণ আয়োজন দিন দিন আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় সত্তার শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতিফলন। পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়াই হোক এবারের প্রত্যয়।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে সমবেত জারি গান পরিবেশন করেন শিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতি ও তার দল। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন এ টি এম আশরাফ হোসেন, আশরাফুজ্জামান, জি এম জাকির হোসেন, মো. মাহমুদুল হাসান, রহিমা খাতুন, আশরাফ মাহমুদ, শারমিন সুলতানা ও মৌসুমী ইকবাল। 

যন্ত্রসংগীতে অংশ নেন প্রিয়ব্রত চৌধুরী (তবলা), এফ এম আলমগীর কবির (বাঁশি), আনোয়ার সাদাত রুবিন (কি-বোর্ড), দীপঙ্কর রায় (অক্টোপ্যাড) ও মেহেদী হাসান রনি (ঢোল)।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব ও ইমরুল ইউসুফ।

এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা শুরু হয়েছে। ১লা বৈশাখ থেকে ৭ বৈশাখ (১৪-২০ এপ্রিল) পর্যন্ত চলবে এ মেলা। এতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ের স্টল বসানো হয়েছে।

একইসঙ্গে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে বৈশাখী মেলারও সূচনা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।