ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: সংগৃহীত

দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘শাসক পরিবর্তন’ (রেজিম চেঞ্জ) নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ইরানে এরই মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটে গেছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখন যাদের সঙ্গে কথা বলছি, তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি গোষ্ঠী... [তারা] খুবই পেশাদার।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার ছেলে মোজতবা হয় নিহত অথবা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “ছেলেটি হয় মৃত, অথবা তার অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাইনি। সে শেষ।” 

তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি ‘দূতদের’ মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। তবে, আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এখনো প্রায় ৩,০০০ লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে—আমরা ইতোমধ্যে ১৩,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলেছি—আর কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে।” তিনি আরও যোগ করেন: “খুব দ্রুতই একটি চুক্তি হতে পারে।” গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসকে ‘উপহার’ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ১০টি তেল ট্যাংকারকে যেতে দিয়েছে—নিজের এই মন্তব্যের কথাও তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান এখন এই সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এই পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, “তিনিই আমাকে জাহাজগুলো যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। মনে আছে, আমি বলেছিলাম তারা আমাকে একটি উপহার দিচ্ছে? আর সবাই বলেছিল, ‘কিসের উপহার? সব বাজে কথা।’ যখন তারা এ ব্যাপারে শুনল, তখন তারা মুখ বন্ধ রেখেছে, আর আলোচনাও খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে।”

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই