
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সোমবার (২৩ মার্চ) ১২৫ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়নের পরপরই সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ইকুয়েডর ও পেরু সংলগ্ন কলম্বিয়ার দক্ষিণ সীমান্তের প্রত্যন্ত শহর পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভূপাতিত হয়।
এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামরিক সূত্রগুলো অনেক বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিল, নিহতের সংখ্যা ৮০ পর্যন্ত হতে পারে। দুর্ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা গেছে, ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিমানের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ এবং গাছের ওপর দিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে এই “মর্মান্তিক দুর্ঘটনা” ঘটে। এলাকাটি পেরু ও ইকুয়েডর সীমান্তে অবস্থিত।
পুতুমায়ো প্রদেশের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মোলিনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কারাকোল নোতিসিয়াস’-কে জানান, ঘটনায় ২১ জনকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিমান বাহিনী জানিয়েছে, লকহিড মার্টিন নির্মিত হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি পুতুমায়ো প্রদেশেরই অন্য একটি শহরে সেনাদের পরিবহন করছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ বলেন, উড্ডয়নস্থল থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার (০.৯ মাইল) দূরেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর বিমানে আগুন ধরে যাওয়ায় সেখানে থাকা গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কোনো “অবৈধ গোষ্ঠীর হামলার” ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সানচেজ।
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, আহতদের রাজধানী বোগোতা ও অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে ৭৪টি শয্যাবিশিষ্ট দুটি বিমান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কলম্বিয়া তাদের প্রথম হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি সংগ্রহ করেছিল ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো নতুন মডেলের সহায়তায় পুরনো কিছু সি-১৩০ বিমানকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান এল আলতো শহরে বিধ্বস্ত হয়। সেবার অল্পের জন্য একটি আবাসিক ভবন রক্ষা পায়। ওই দুর্ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।
সূত্র : সিবিএস নিউজ
আরটিএনএন/এআই



