ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার দৃশ্যছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রায়ি জানিয়েছেন, তারা শিগগিরই খিরবেত সেলম, বেইত ইয়াহুন, সারাফান্দ এবং দেইর কানুন এন-নাহর গ্রামে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ আদেশের পরিধি আরও বাড়ল। নতুন নির্দেশনার ফলে ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) উত্তরের জাহরানি নদী পর্যন্ত এলাকা এর আওতায় এল, যা লিটানি নদী পর্যন্ত দেওয়া আগের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই ব্যাপক উচ্ছেদ আদেশের আওতায় এখন ১,৪৭০ বর্গকিলোমিটার (৫৬৮ বর্গমাইল) এলাকা পড়েছে, যা লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৪ শতাংশ।

লেবাননজুড়ে এখন তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের বদ্ধমূল ধারণা, দেশটির কোনো স্থানই আর নিরাপদ নয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি এবং পুরো দক্ষিণ লেবাননজুড়ে উচ্ছেদের আদেশ জারি করলেও, তা মেনে চলায় নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা মিলছে না।

এর বাস্তব প্রমাণও মিলেছে। দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারের (Tyre) জন্য মাঝরাতে আকস্মিক উচ্ছেদের আদেশ জারি করা হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে শহরটিতে ৫০,০০০ মানুষ বাস করতেন; তাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিলেন, তারা তড়িঘড়ি করে সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে রাতের আঁধারেই পালাতে বাধ্য হন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের ছোটাছুটিতে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, গত কয়েক ঘণ্টায় মধ্য বৈরুতে চালানো হামলাগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ইসরায়েলের সতর্কবাণী বা নির্দেশ মেনে স্থান ত্যাগ করলেই যে জীবন নিরাপদ থাকবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

 

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই