ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আওনছবি: সংগৃহীত

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা, কারণ কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের সাথে লেবানন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি স্থল অভিযান ঠেকানো এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিগুলো ধ্বংসের যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা রুখতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আর এই প্রেক্ষাপটেই লেবানন এমন পদক্ষেপ নিল।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা হুমকি দিয়ে বলেছেন, বৈরুত এবং এর দক্ষিণের শহরতলিগুলোকে 'খান ইউনিস'-এর মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ গাজার শহর খান ইউনিসকে হামলায় আক্ষরিক অর্থেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংঘাত অবসানে ফ্রান্সের একটি পরিকল্পনার খবরও পাওয়া গেছে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত লেবানন ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা হবে একটি অভাবনীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ফরাসি এই পরিকল্পনার অন্য অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলোর প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।

চুক্তির এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১৫ মাসেও ইসরায়েল এটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টিও চুক্তির শর্তের অন্তর্ভুক্ত। তবে শনিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে ফ্রান্স কেবল লেবাননকে সহায়তা ও সমর্থন জোগাতে আগ্রহী।

কিন্তু, ফরাসি এই তৎপরতার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে যে, এ ধরনের পরিকল্পনার অস্তিত্ব সত্যিই রয়েছে। মূলত ফ্রান্স চাইছে এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকেও যুক্ত করতে, যাতে ভয়াবহ এই সংঘাতের অবসানে একটি বিস্তৃত ও জোরালো কূটনৈতিক চাপ তৈরি করা যায়।

 

সূত্র : মিডল ইস্ট আই ও আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই