
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা করছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করতে পারেন। প্রশাসন কর্মকর্তাদের সাথে একটি গোপন (ক্লাসিফায়েড) ব্রিফিংয়ের পর সিনেটররা জানিয়েছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য এবং পরিসর নিয়ে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের সাথে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং শেষে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, প্রশাসনের গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে তারা ইরানে মার্কিন বাহিনী পাঠানোর দিকেই এগোচ্ছে। "সম্ভাব্য যেকোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা মনে হয় ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করার পথেই হাঁটছি," সাংবাদিকদের এই কথা জানিয়ে ব্লুমেন্থাল আরও বলেন যে, তিনি ওই ব্রিফিং থেকে "অসন্তুষ্ট এবং ক্ষুব্ধ" হয়ে বেরিয়ে এসেছেন।
ব্লুমেন্থাল জানান, আইনপ্রণেতারা এখনও যুদ্ধের ব্যয়, এর সম্ভাব্য স্থায়িত্ব এবং মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা চাইছেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধের ব্যয়, উর্দি পরিহিত আমাদের ছেলেমেয়েদের (সেনাদের) জীবনের ঝুঁকি এবং এই সংঘাতের আরও তীব্র ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে এই প্রশাসন মার্কিন জনগণকে যতটুকু জানিয়েছে, তাদের তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু জানার অধিকার রয়েছে।"
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, প্রশাসনের এই ব্রিফিং পরিস্থিতি স্পষ্ট করার বদলে বরং আরও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউস ইরানে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করেনি, তবে বড় পরিসরে কোনো স্থল অভিযানের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, কেবল "খুব জোরালো কোনো কারণ থাকলেই" স্থলবাহিনীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পর্দার আড়ালে প্রশাসন বিশেষ অভিযান বাহিনী (স্পেশাল ফোর্সেস) ব্যবহার করে সীমিত পরিসরের বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ছোট ছোট বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে এ ধরনের অভিযান সম্ভব, তবে এখনই তা ঘটছে না। গত সপ্তাহান্তে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' উড়োজাহাজে ট্রাম্প বলেন, "কোনো এক পর্যায়ে হয়তো আমরা এটি করব। তবে আমরা যদি কখনও এমন কিছু করি, তবে তার আগেই ইরানিরা এতটাই ধ্বংস হয়ে যাবে যে তারা স্থল পর্যায়ে আর যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখবে না।"
প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি বা লক্ষ্য সম্পর্কে অস্পষ্টই রয়ে গেছেন, তবে তিনি ইরানের "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ" দাবি করেছেন। এই সামরিক অভিযান কতদিন স্থায়ী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তার ধারণার কথা বদলাতে থাকেন। তিনি "চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ" থেকে শুরু করে "যতদিন লাগে", আবার কখনও "খুব শিগগিরই শেষ হতে যাওয়া একটি সংক্ষিপ্ত অভিযান" বলে মন্তব্য করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন হঠাৎ করে তেহরানের সাথে আলোচনা থেকে সরে আসে এবং ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়ে ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালালে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যেই অন্তত আটজন নিহত এবং ১৪০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই অনিশ্চয়তা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। কিছু ডেমোক্র্যাট এখন হুমকি দিচ্ছেন যে, প্রশাসন কর্মকর্তারা যদি শপথ নিয়ে যুদ্ধ এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাক্ষ্য না দেন, তবে তারা সিনেটে পদ্ধতিগত হাতিয়ার ব্যবহার করে আইন প্রণয়নের কাজ ধীর করে দেবেন।
সূত্র : রাশিয়া টুডে
আরটিএনএন/এআই



