
রোববার (৮ মার্চ) 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্তটি একটি "যৌথ" বিষয় হবে, যা তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে মিলেই নেবেন। সংক্ষিপ্ত এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, তিনি এবং নেতানিয়াহু না থাকলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র (ইরান) ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিত। ট্রাম্প বলেন, "ইরান ইসরায়েল এবং এর চারপাশের সবকিছু ধ্বংস করতে যাচ্ছিল... আমরা একসাথে কাজ করেছি। যে দেশটি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, আমরা তাকেই ধ্বংস করে দিয়েছি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা তিনি একাই সিদ্ধান্ত নেবেন, নাকি নেতানিয়াহুরও মতামতের সুযোগ থাকবে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয়, এটি কিছুটা... পারস্পরিক বিষয়। আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছে। আমি সঠিক সময়েই একটি সিদ্ধান্ত নেব, তবে সবকিছুই বিবেচনায় রাখা হবে।" ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে যে, নেতানিয়াহুর মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টই নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও ইসরায়েল একাই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই তাত্ত্বিক সম্ভাবনার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি যুক্ত করেন: "আমার মনে হয় না এর কোনো প্রয়োজন হবে।" ট্রাম্প যুদ্ধের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটন এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে আশা করছে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া ট্রাম্পের উত্তরগুলো নির্দেশ করে যে, এই যুদ্ধে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর বেশ ভালো মাত্রায় প্রভাব রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই যুদ্ধ শুরু করেছিল এবং প্রথম দিনের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যখন ঘোষণা করে যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) খামেনির ছেলে মোজতবাকে দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে, ঠিক তার পরপরই ট্রাম্প এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারটি দেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেছিলেন যে, হোয়াইট হাউসের অনুমোদন না থাকলে ইরানের পরবর্তী নেতা "বেশিদিন টিকবেন না"। তবে মোজতবার নির্বাচনের বিষয়ে টাইমস অব ইসরায়েলের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাম্প। শুধু এটুকু বলেছেন: "দেখা যাক কী ঘটে।"
নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার আহ্বান
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে "কলঙ্ক" আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মূলত ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্য ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার কারণেই তিনি হারজোগের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
তবে এর পরদিনই ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি প্রেসিডেন্ট হারজোগের সাথে দেখা করেন এবং তার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। হারজোগের মত বদলাতে এটি কোনো "গুড কপ-ব্যাড কপ" (একজনের কড়া ও অন্যজনের নরম আচরণ করার) কৌশল ছিল কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান ট্রাম্প। তবে তিনি এই সাক্ষাৎকারে আবারও ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন।
সূত্র : ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইসরায়েল
আরটিএনএন/এআই



