ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র
নিজের বাসভূমি ছাড়ছেন লেবাননের বাসিন্দরাছবি: সংগৃহীত

আসন্ন হামলার হুমকি দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের আর্নুন, ইয়োহমোর, পূর্ব জুরারিহ এবং পশ্চিম জুরারিহ গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নাবাতিহ প্রদেশের উত্তরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচায় আদ্রাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধা, তাদের স্থাপনা এবং অস্ত্রশস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, "সামরিক উদ্দেশ্যে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত যেকোনো বাড়িই আমাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।" অন্যদিকে লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে মধ্য বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, এই হামলায় তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। মধ্য বৈরুতে চালানো এই সর্বশেষ হামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল তাদের হামলার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে লেবাননের সাম্প্রদায়িক মানচিত্র এবং কাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—সেই পরিসরটিও তারা বিস্তৃত করেছে।

ইসরায়েল এতদিন দাবি করে আসছিল যে, তারা লেবাননের শিয়া সম্প্রদায়ের (যাঁরা মূলত হিজবুল্লাহর সমর্থক গোষ্ঠী) মধ্যে বসবাসরত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু এবারের হামলাটি আঘাত হেনেছে ঐতিহ্যগতভাবে সুন্নি অধ্যুষিত এলাকা 'রাউচে'-তে। এর আগে খ্রিষ্টান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্রুজ (Druze) এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এর ফলে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে লেবাননজুড়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হচ্ছে। এটি এমন এক সন্দেহ ও উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা ইসরায়েল হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে বাড়াচ্ছে অথবা একেবারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই উসকে দিচ্ছে।

যার কারণে লেবাননের মানুষের মধ্যে এখন এমন একটি ধারণা জন্ম নিয়েছে যে: লেবাননের কোনো জায়গাই আর নিরাপদ নয়, এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দেওয়াটাও এখন আর নিরাপদ নয়, কারণ যারা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে, ইসরায়েলি বিমান হামলা তাদের পিছু নিতে পারে।

 

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই