
তেহরান মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকা মিলিয়ে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা চিন্তা করাও বেশ কঠিন। তারপরও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান এই হামলার মুখে তেহরানের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মূলত যাদের শহর ছাড়ার সামর্থ্য আছে এবং রাজধানীর বাইরে নিজস্ব বাড়ি বা থাকার জায়গা রয়েছে, তারাই তেহরান ছাড়ছেন। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য মানুষ বাধ্য হয়ে শহরেই থেকে গেছেন। চরম আতঙ্ক, হতাশা ও তীব্র উৎকণ্ঠার মাঝেই দিন কাটছে তাদের।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা মূলত তেহরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; কিন্তু এবারের হামলার পরিসর অনেক ব্যাপক এবং আরও অসংখ্য শহর এই হামলার শিকার হচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ১৫০টিরও বেশি শহর ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং, অন্যান্য শহরগুলোও এখন আর নিরাপদ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলার আজ ষষ্ঠ দিন। গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের রাজধানীজুড়ে, বিশেষ করে শহরের পূর্বাঞ্চলে একাধিক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উড়তেও দেখা গেছে।
কেবল তেহরানেই নয়, বরং সানানদাজসহ পুরো দেশজুড়েই অন্যান্য শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই জোরদার অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে এখন চরম হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পাল্টা হামলার বিষয়েও আমরা বিবৃতি পেয়েছি, যার ১৯তম দফার হামলা বর্তমানে চলছে। গোটা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং বিশেষভাবে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে তারা।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



