
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ টায়ারের আল শাহাবিয়া এলাকার একটি বাড়ি এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, বৈরুতের ঘোবেইরি, হারেত হরেইক এবং বির আল-আবেদ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।
আল জাজিরা অ্যারাবিক-এর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, গত এক ঘণ্টায় নাবাতিয়েহ এলাকাতেও ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। তবে এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নাবাতিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে— এমন দাবি করে সেখানে বারবার বোমাবর্ষণ করছে ইসরায়েল। সোমবার থেকে লেবাননে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর আগে উত্তর লেবাননের ত্রিপোলি শহরের খুব কাছে অবস্থিত বেদ্দাউই শিবিরেও হামলা হয়েছিল। জায়গাটি লেবাননে চলা ইসরায়েলি হামলার মূল কেন্দ্রগুলো থেকে বেশ দূরে অবস্থিত। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বলছে, কালিলা শহরের কাছে টায়ার-নাকুরা সড়কে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, এতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের উত্তরে, লেবাননের অভ্যন্তরে পাঁচটি পয়েন্ট (কৌশলগত অবস্থান) দখল করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এখন মনে হচ্ছে তারা এই পয়েন্টগুলো ছাড়িয়ে লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে অগ্রসর হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা একটি 'বাফার জোন' (নিরাপদ অঞ্চল) তৈরি করতে এবং হিজবুল্লাহকে পিছু হঠতে বাধ্য করার জন্যই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছুড়ছে।
লেবাননে এই স্থল অনুপ্রবেশের পক্ষে ইসরায়েলের যুক্তি হলো— এই হুমকিকে তাদের নিষ্ক্রিয় করতে হবে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং বৈরুতের বাসিন্দাদের জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ক্রমাগত বিভিন্ন স্থানে সরে যাওয়ার (ইভাকুয়েশন) সতর্কতা জারি করে আসছে।
তবে লেবাননের সাধারণ মানুষের মাঝে এই ভয় কাজ করছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যা করছে তা হয়তো সাময়িক কোনো পদক্ষেপ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে ভূখণ্ড দখলের কোনো পরিকল্পনা হতে পারে, অথবা সরাসরি সামরিক আগ্রাসনেরই নামান্তর।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



