
শনিবার ভোরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে—গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বিষয়টি এখন নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেঙে পড়ল।
আমরা জানি, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেও ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছিল; তবে হিজবুল্লাহ নিজেদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল বলেই দাবি করেছিল। সংঘাত এখন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে, আর এরই মধ্যে লেবাননে যুদ্ধের আরও একটি নতুন ফ্রন্ট বা রণাঙ্গন উন্মুক্ত হলো।
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর এই হামলাকে "দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক কাজ" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি "লেবাননের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে বিপন্ন করে তোলে এবং ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত এনে দেয়।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা দেশকে নতুন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ বা দুঃসাহসিক অভিযানে জড়াতে দেব না। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং লেবানিজ জনগণকে রক্ষা করতে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, খামেনি হত্যা এবং লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সীমালঙ্ঘনের জবাবেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা হাইফায় একটি ইসরায়েলি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তারা একে "লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষা এবং ইসরায়েলের ক্রমাগত আগ্রাসনের জবাব" হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, "প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব সবসময়ই বলে এসেছে যে, ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রাখা এবং আমাদের নেতা, যুবসমাজ ও জনগণকে হত্যা—আমাদের আত্মরক্ষার এবং উপযুক্ত সময় ও স্থানে জবাব দেওয়ার অধিকার দেয়।" তারা আরও বলে, "ইসরায়েলি শত্রু কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই তাদের পনেরো মাসব্যাপী আগ্রাসন চালিয়ে যেতে পারে না। এই আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে তাদের সরে যেতে বাধ্য করার জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা।"
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



