ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো ধরনের আক্রমণ হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এদিকে দেশজুড়ে চলমান প্রাণঘাতী বিক্ষোভ এবং টানা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেই ধরপাকড় আরও জোরদার করেছে ইরান সরকার।

বিলবোর্ডে যুদ্ধের বার্তা
রোববার তেহরানের কেন্দ্রে অবস্থিত ইনঘিলাব (বিপ্লব) স্কোয়ারে একটি বিশাল বিলবোর্ড উন্মোচন করেছে তেহরান পৌরসভা। এটি মূলত ইরানের জলসীমার দিকে ধেয়ে আসা মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং যুদ্ধবিমানের বহরের জবাবে একটি সতর্কবার্তা।
বিলবোর্ডের ছবিতে একটি বিমানবাহী রণতরীর ওপর ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান এবং রক্তের স্রোত দিয়ে মার্কিন পতাকার আকৃতি তৈরি হতে দেখা যায়। সেখানে ফার্সি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে: “যদি বাতাস বোনো, তবে ঝড় ফসল হিসেবে পাবে” (If you sow the wind, you will reap the whirlwind)।

ইরানের প্রস্তুতি অনুশোচনামূলকজবাব
ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সোমবার জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেকোনো হামলার জবাব হবে "ব্যাপক এবং অনুশোচনা সৃষ্টিকারী"।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ট্রাম্প ঘোষিত মার্কিন ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর উপসাগরের দিকে এগিয়ে আসার ফলে যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হবে, তা সবাইকে প্রভাবিত করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন।

মিত্রদের যুদ্ধের হুমকি
ইরানের সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা হিজবুল্লাহ, ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিরা এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহর প্রধান আবু হোসেন আল-হামিদাউই মার্কিন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন। হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এদিকে, গাজা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুথিরা আবারও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে।

বিক্ষোভ ব্যাপক ধরপাকড়
ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশের পুলিশ প্রধান মোহাম্মদরেজা রহমানি রোববার জানিয়েছেন, নতুন করে ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্যমতে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৫,৮৪৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪১,২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭, যাদের অধিকাংশই ‘নিরীহ’ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাঙ্গাকারীদের বিচারে কোনো ‘দয়া’ দেখানো হবে না।

সীমিত ইন্টারনেট সুবিধা
টানা তিন সপ্তাহ ধরে ইরানে নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। সাধারণ জনগণ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে সরকার।
তেহরানে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ছোট অফিস খোলা হয়েছে, যেখানে তারা চেম্বার অব কমার্সের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এবং ‘কেবল ব্যবসায়িক কাজে’ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সীমিত সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। একইভাবে সাংবাদিকদের জন্যও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় একটি বুথ খুলেছে। তবে সাধারণ মানুষ কেবল ধীরগতির এবং সীমিত লোকাল ইন্ট্রানেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই