
ইরানের উপর কড়া নজর রাখতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে বিশাল এক মার্কিন নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের ওপর নজর রাখছি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরানের দিকে আমাদের বড় একটি বাহিনী যাচ্ছে। আমি চাই না কোনো অঘটন ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, “হয়তো আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে না... তবে সতর্কতাস্বরূপ অনেকগুলো জাহাজ বা একটি বিশাল ফ্লোটিলা সেদিকে যাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়।”
হুমকি ও কূটনীতি :
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তেহরান সরকার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আশ্বাস দেওয়ায় তিনি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন। তবে নতুন করে নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা এবং ট্রাম্পের বক্তব্য ওই অঞ্চলে চলমান সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিই নিশ্চিত করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়ায় থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপকে গতিপথ পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেন, তার বলপ্রয়োগের হুমকির কারণেই ইরান সরকার ৮০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থেকেছে। তিনি জানান, দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এখনো আগ্রহী। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩,১১৭ জন (বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ) নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম জানিয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর বার্তা :
এর আগে বুধবার সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।
২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “তারা পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে পারবে না। তারা যদি এটা করে, তবে আবারও হামলার ঘটনা ঘটবে।” উল্লেখ্য, গত জুনের ওই হামলার আগেও ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছিল এবং হামলার বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি :
যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের জবাবে মঙ্গলবার ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’ লেখা এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, আক্রান্ত হলে তেহরান তাদের সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে।
আরাঘচি লিখেন, “আমাদের ওপর আবারও হামলা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী হাতে থাকা সবকিছু দিয়ে পাল্টা আঘাত করতে দ্বিধা করবে না।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি কোনো হুমকি নয়, বরং বাস্তবতা। তিনি বলেন, “সর্বাত্মক সংঘাত অবশ্যই ভয়াবহ হবে এবং ইসরায়েল ও তার সহযোগীরা হোয়াইট হাউসে যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে যে কাল্পনিক সময়সীমার কথা বলছে, যুদ্ধ তার চেয়ে অনেক দীর্ঘস্থায়ী হবে। এটি পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।”
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



