
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চেয়ারম্যান করে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা কার্যনির্বাহী পরিষদ (Founding Executive Council) গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন সাতজন প্রভাবশালী সদস্য।
বোর্ডের ৭ সদস্য হলেন:
১. টনি ব্লেয়ার: যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
২. জ্যারেড কুশনার: ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা।
৩. মার্কো রুবিও: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অফ স্টেট)।
৪. স্টিভ উইটকফ: মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত।
৫. মার্ক রোওয়ান: আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট’-এর সিইও।
৬. অজয় বাঙ্গা: বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট।
৭. রবার্ট গ্যাব্রিয়েল: মার্কিন ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
সদস্যদের নিয়ে বিতর্ক
বোর্ডে টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একাধিক আরব ও মুসলিম দেশ তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্লেয়ারের ইনস্টিটিউট গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে গাজা উপকূলে ‘ট্রাম্প রিভেরা’ নামে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্যদিকে, জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে কুশনার এক মন্তব্যে বলেছিলেন, গাজার সমুদ্রতট বা ‘ওয়াটারফ্রন্ট’ খুবই মূল্যবান সম্পত্তি। তিনি আরও বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া এবং এলাকাটি ‘পরিষ্কার’ করা।
ফাঁস হওয়া একটি নথি অনুযায়ী, তিনটি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করলেই ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সনদ কার্যকর হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মেয়াদ হবে তিন বছর (নবায়নযোগ্য)। তবে যারা ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) অনুদান দেবে, তাদের জন্য স্থায়ী আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ম্যান্ডেট পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প একই সাথে এর চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নিয়োগ এবং উপ-কমিটি গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকবে।
কারা যোগ দিচ্ছে, কারা না করছে :
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো এবং ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই এতে স্বাক্ষর করেছে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা এখনও প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
ভ্যাটিকান নিশ্চিত করেছে যে পোপ লিও আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন জানিয়েছেন, পোপ অংশ নেবেন কি না তা বিবেচনা করতে সময় প্রয়োজন। অন্যদিকে, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সংস্থাটি "আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলায় বিপজ্জনকভাবে হস্তক্ষেপ করছে।"
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



