
সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরসহ সাতটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে দেশগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ইসরায়েলও প্রকাশ্যে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছিল।
মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান ও গাজা প্রসঙ্গ :
সৌদি আরব জানিয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এই জোট—যার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার—গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, পুনর্গঠন এবং ‘ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই বোর্ডে যোগ দিচ্ছে।
শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার দুই বছরের যুদ্ধের অবসান এবং গাজা পুনর্গঠনের তদারকির লক্ষ্যেই এই বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত সনদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো উল্লেখ নেই। বরং এর কাঠামো দেখে মনে হচ্ছে, এটি জাতিসংঘের কার্যক্রমকে প্রতিস্থাপন করার জন্য বা জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।
পুতিন ও ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য :
সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। অনেকেই এটি গ্রহণ করেছেন।"
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া এখনও আমন্ত্রণটি পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, জব্দ করা রুশ সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে প্রস্তুত রাশিয়া এবং তিনি এই বোর্ডটিকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন।
সনদ ও সদস্যপদ নিয়ে বিতর্ক :
ফাঁস হওয়া একটি নথি অনুযায়ী, তিনটি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করলেই ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সনদ কার্যকর হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মেয়াদ হবে তিন বছর (নবায়নযোগ্য)। তবে যারা ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) অনুদান দেবে, তাদের জন্য স্থায়ী আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ম্যান্ডেট পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প একই সাথে এর চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নিয়োগ এবং উপ-কমিটি গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকবে।
কারা যোগ দিচ্ছে, কারা না করছে :
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো এবং ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই এতে স্বাক্ষর করেছে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা এখনও প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
ভ্যাটিকান নিশ্চিত করেছে যে পোপ লিও আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন জানিয়েছেন, পোপ অংশ নেবেন কি না তা বিবেচনা করতে সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সংস্থাটি "আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলায় বিপজ্জনকভাবে হস্তক্ষেপ করছে।"
নেতৃত্বে যারা :
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডের সাত সদস্যের নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
সূত্র : বিবিসি
আরটিএনএন/এআই



