ফিলিস্তিন, গাজা
আন্তর্জাতিক প্রচারণার পরও ধ্বংসের মুখে ফিলিস্তিনি শিশুদের ফুটবল মাঠছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক প্রচারণার পরও ধ্বংসের মুখে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি ফুটবল ক্লাব। সমর্থকদের দাবি, ফিলিস্তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বিরল সুযোগ। তবে ইসরায়েলের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

গাজার দুই বছরের যুদ্ধ, ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই ফুটবল মাঠের ঘটনাটি হয়তো ছোট মনে হতে পারে। তবে ফুটবলের মতো বিশ্বজনীন আবেগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

২০২০ সালে বেথলেহেমের প্রান্তে, ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরকে পৃথককারী বিশাল কংক্রিটের দেয়ালের ছায়ায় এই কৃত্রিম টার্ফের মাঠটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে আয়েদা শরণার্থী শিবিরের ২০০-এর বেশি শিশু এখানে নিয়মিত অনুশীলন করে। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় জোরপূর্বক উচ্ছেদ হওয়া বা পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বংশধরদের বাসস্থান এই জনাকীর্ণ শিবির।

গত বছরের ৩ নভেম্বর, অনুশীলনের জন্য মাঠে গিয়ে শিশুরা গেটে একটি নোটিশ দেখতে পায়। সেখানে মাঠটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং এর পরপরই উচ্ছেদের নির্দেশ (demolition order) জারি করা হয়।

১০ বছর বয়সী হবু ফুটবলার নায়া, যার গায়ে ছিল ব্রাজিলের নেইমারের নাম লেখা জার্সি, হতাশা প্রকাশ করে বলে, “আমাদের খেলার আর কোনো জায়গা নেই। আমরা এখানে আমাদের স্বপ্ন বুনি। যদি তারা মাঠটি ভেঙে দেয়, তবে তারা আমাদের স্বপ্নগুলোও ভেঙে দেবে।” আরেক তরুণ খেলোয়াড় মোহাম্মদ জানায়, মাঠ ভাঙার খবর শুনে সে খুবই ভেঙে পড়েছিল, কারণ এই মাঠটি তার কাছে খুব প্রিয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কমিউনিটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রকাশ, লাখ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত পিটিশন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদনের পর সম্প্রতি তাদের সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে গত সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এখন ক্লাব কর্তৃপক্ষের সামনে দুটি কঠিন পথ খোলা: হয় তাদের নিজেদেরই মাঠটি ভেঙে ফেলতে হবে, নয়তো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক এটি ভেঙে দিয়ে তাদের হাতে খরচের বিল ধরিয়ে দেবে।

মাঠের পাশ দিয়েই চলে গেছে বিশাল প্রাচীর, যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের স্বপ্ন ও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের জটিল সমীকরণের প্রতীক। সামরিকভাবে পুরো পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, প্রশাসনিকভাবে এটি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।

১৯৯০-এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরকে ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। ‘এ’ ও ‘বি’ এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কিছুটা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশেরও বেশি ভূমি নিয়ে গঠিত ‘সি’ এলাকাটি এখনো পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কথা ছিল, আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই এলাকা ফিলিস্তিনিদের হাতে হস্তান্তর করা হবে, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। আর এই জটিল রাজনীতির বলি হতে চলেছে শিশুদের খেলার এই ছোট্ট সবুজ মাঠটি।

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই