ইসরায়েল, গাজা, ফিলিস্তিন
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহতছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমন এক সময়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে, হামাসের সাথে ২০ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে।

ওয়াফা নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে আল-হাওলি এবং আল-জারু পরিবারের দুটি বাড়িতে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত ছয়জনের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহতদের একজন মোহাম্মদ আল-হাওলি ছিলেন হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডের একজন কমান্ডার। তবে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল-খলিলি জানিয়েছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত এই বার্তাই দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের শর্তগুলো তারা নিজেদের মতেই নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে 'হামলা বৃদ্ধির' পথ খোলা রাখবে।

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, গাজা সংঘাত অবসানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি থেকে পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন ব্যবস্থা এবং পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

এই পরিকল্পনার আওতায় একটি আন্তর্জাতিক 'শান্তি বোর্ড' (Board of Peace) গঠিত হবে এবং গাজার নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা হবে। তবে হামাস এখনো পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে জনসমক্ষে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা'। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপ-মন্ত্রী আলী শাথ এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এএফপি জানিয়েছে, কমিটিটি বর্তমানে মিসরে অবস্থান করছে এবং গাজায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলী শাথ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই কমিটি অস্ত্রের বদলে মেধার ওপর ভিত্তি করে চলবে এবং কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সমন্বয় করবে না।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০০-এর বেশি শিশু। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছে। হামাস এই সাম্প্রতিক হামলাকে 'নৃশংস অপরাধ' হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই