
ভেনেজুয়েলা পর সম্ভাব্য আক্রমণের শঙ্কায় রয়েছে ইরান। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের দিকেও আগ্রাসী মনোভাবে অবিচল রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক সংবাদে উঠে এসেছে বিস্তারিত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন ডিসি সফর করেছেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তবে গত বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের ‘নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ আকাঙ্ক্ষা থেকে তাঁকে নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে।
বৈঠকের পর ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম হইনি। এটা স্পষ্ট যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ‘জয়’ বা ‘দখল’ করার ইচ্ছা রয়েছে।’
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্ড আশা করেছিলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকটি গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে। কিন্তু বৈঠকে মূল মতবিরোধগুলো দূর হয়নি। এর পরিবর্তে, কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ বা কর্মগোষ্ঠী গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
রাসমুসেন বলেন, ‘আমাদের মতে, এই গ্রুপের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের সীমারেখা বা ‘রেড লাইন’কে সম্মান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করা।’
এ দিকে মটজফেল্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানালেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এর অর্থ এই নয় যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ‘মালিকানাধীন’ হতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গ্রিনল্যান্ড সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেও দ্বীপটির যেকোনো বিষয়ে স্থানীয় আদিবাসী বা ‘কালাল্লিট’দের মতামতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর একটি পোস্টে লেখা হয়, “আপনারা আমাদের, অর্থাৎ কালাল্লিটদের জিজ্ঞেস করছেন না কেন? সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৬ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডার বা কালাল্লিট যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন।”
আর্কটিক অঞ্চলে পশ্চিমা স্বার্থের প্রতি চীন ও রাশিয়া হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় মিত্ররা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ সত্ত্বেও ট্রাম্পের ভূখণ্ডটি ‘মালিকানায়’ নেওয়ার জেদ বিন্দুমাত্র কমেনি।
বুধবার ওভাল অফিসে একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রয়োজন। ডেনমার্ক কোনো সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ডেনমার্কসহ সবার জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হলো, রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, তবে ডেনমার্কের কিছুই করার থাকবে না; কিন্তু আমাদের পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব।’
তবে ডেনমার্কের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে জানিয়ে আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার বলেন, ‘সেখানে বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন কর্মীসহ একটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এটি আরও সম্প্রসারিত করতে পারে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী।’
ফিশার আরও বলেন, ‘তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অন্য কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি যত দ্রুত সম্ভব গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য দেখতে চান।’
ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাবের পর, স্বাভাবিকভাবেই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে শীতল আর্কটিক অঞ্চলজুড়ে।
এমকে/আরটিএনএন



