
হাঁটতে গিয়ে অনেক সময় পা ভারী হয়ে ওঠে বা কোনো কারণ ছাড়াই পা ফুলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে পা ফোলার বিভিন্ন কারণ রয়েছে, কিছুই সাধারণ, আবার কিছু গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে। চলুন, দেখে নেওয়া যাক হঠাৎ করে পা ফোলার সম্ভাব্য কারণগুলো।
পা ফোলার কারণ
পানি জমে শরীরের কোনো অংশ ফুলে ওঠাকে ইডেমা বলে। মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের নিচের দিকে পানি জমে বেশি, তাই পা ফোলার ঘটনা বেশ সাধারণ। তবে প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে, দুই পা ফোলা না এক পা ফোলা।
১. দুই পা ফোলা
যদি দুই পা একসঙ্গে ফুলে যায়, তাহলে নিচের কারণে এটি হতে পারে:
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (যেমন এমলডিপিন), অ্যাসপিরিন, আইব্রপ্রফেন বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, জন্মনিরোধক পিলের কারণে পা ফুলতে পারে।
গর্ভাবস্থা: অন্তঃসত্ত্বা নারীদের তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে পা ফোলা সাধারণ বিষয়।
পায়ের শিরার সমস্যা: পায়ের শিরার একমুখী ভালভ দুর্বল হলে রক্ত জমে পায়ে ফোলাভাব হতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকলে। অতিরিক্ত ওজনও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।
২. গুরুতর রোগের লক্ষণ:
কিছু কিছু ক্ষেত্রে পা ফোলা গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে:
হার্ট ফেইলিউর: শ্বাসকষ্ট, মুখ বা পেট ফোলা, প্রস্রাব কম হওয়া ইত্যাদি।
কিডনি ফেইলিউর: পেট ফোলা, মুখ ফোলা, প্রস্রাবে পরিবর্তন, পেশী দুর্বলতা ইত্যাদি।
লিভার ফেইলিউর: জন্ডিস, পেট ফোলা ইত্যাদি।
থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েড হরমোনের অভাব।
অপুষ্টি: শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব হতে পারে।
৩. এক পা ফোলা
যদি এক পা ফুলে, তাহলে এর কারণ হতে পারে:
ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT): শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে পা ফুলে যায়। এটি মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যদি রক্তপিণ্ড হার্ট বা ফুসফুসে চলে যায়। এক পা ফুলে যাওয়ার সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
লসিকা নালিতে ব্লক (লিম্ফ ইডেমা): প্রদাহ বা জীবাণু সংক্রমণের কারণে পা ফুলতে পারে।
হাড় ক্ষয় বা হাঁটু ব্যথা: হাঁটু বা পায়ের অন্যান্য অংশে সমস্যা থাকলে পা ফুলতে পারে।
করণীয়
পা ফোলা কমাতে বা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন:
লবণ কম খাওয়া: লবণ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত ব্যায়াম: শরীরের ফিটনেস বজায় রাখতে হবে।
ঘুমানোর সময় পা উঁচু করে রাখা: পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা উঁচু অবস্থায় রাখুন।
হঠাৎ পা ফুলে যাওয়া যেমন সাময়িক কারণেও হতে পারে, আবার গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই যদি পা ফোলার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্যান্য উপসর্গ থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।



