পেট ফাঁপা মানেই গ্যাস নয় উপেক্ষা করলেই রয়েছে জীবনঝুঁকির
পেট ফাঁপা মানেই গ্যাস নয় উপেক্ষা করলেই রয়েছে জীবনঝুঁকিরছবি: আরটিএনএন

পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং অনেকের কাছেই সাধারণ একটি সমস্যা হিসেবে পরিচিত হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ তীব্র পেট ফাঁপা, ব্যথা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পুনের মানিপাল হাসপাতালের জেনারেল সার্জন প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, পেট ফাঁপা সবসময় সাধারণ গ্যাসজনিত সমস্যা নয়। অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে জটিল কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, পেট ফাঁপার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে—গ্যাস জমা, শরীরে অতিরিক্ত তরল সঞ্চয়, প্রদাহ বা অন্ত্রের বাধা। সাধারণ সমস্যা ও জরুরি অবস্থার পার্থক্য বোঝা যায় মূলত শরীরের ভেতরে কোনো কাঠামোগত সমস্যা আছে কি না, যেমন অন্ত্রের ব্লকেজ, অন্ত্র ফুটো হওয়া বা রক্ত চলাচলের সমস্যা। এসব জটিলতা তৈরি হলে অন্ত্রে চাপ বেড়ে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতি এমনকি জীবনঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ করে তীব্র পেট ফাঁপা, যেখানে পেট হঠাৎ ফুলে শক্ত বা ব্যথাযুক্ত হয়ে যায়। এটি অনেক সময় অন্ত্রের বাধা বা শরীরে তরল জমার লক্ষণ হতে পারে। একইভাবে পেটব্যথা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে তা অ্যাপেন্ডিসাইটিস, হার্নিয়া বা অন্ত্র ফুটো হওয়ার মতো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো গ্যাস বা মলত্যাগ বন্ধ হয়ে যাওয়া। পেট ফাঁপার সঙ্গে যদি গ্যাস বের না হয় বা মলত্যাগ বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটি অন্ত্রের ব্লকেজের সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যা দ্রুত জীবনঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। এছাড়া বারবার বমি হওয়া, বিশেষ করে সবুজ বা দুর্গন্ধযুক্ত বমি, অন্ত্রে বাধার স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

জ্বরের সঙ্গে পেট ফাঁপা থাকলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। এটি পেটের ভেতরের সংক্রমণ, অ্যাবসেস বা পেরিটোনাইটিসের মতো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে দ্রুত হার্টবিট, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা শরীরে সংক্রমণ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা শকের লক্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

তিনি আরও বলেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করা হয়। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিশেষ করে অন্ত্রের ব্লকেজ, ফুটো হওয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা হার্নিয়ার মতো জটিল ক্ষেত্রে।

চিকিৎসকের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে টিস্যু নষ্ট হওয়া, মারাত্মক সংক্রমণ বা অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পেট ফাঁপার মতো সাধারণ মনে হওয়া সমস্যার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।