
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপান–বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজুইকি কাটাওকার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জাপান–বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হবে। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইপিএ আলোচনার ক্ষেত্রেও রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে জেট্রো কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজুইকি কাটাওকা বলেন, রাজনৈতিক অগ্রগতির পর বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও ইতিবাচক হয়েছে।
তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষর হলে বাণিজ্য সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়বে। ইতোমধ্যে বহু জাপানি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং ঢাকা মেট্রো রেলসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ রয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে জেট্রো কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে আরও বেশি প্রচারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



