
পোশাকশিল্পে চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
বুধবার (১১ মার্চ) বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। উপস্থিত ছিলেন সমিতির পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পটি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। ব্যাংকগুলো ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করছে না, ফলে কারখানা সচল রাখা ও ঋণ পরিশোধ উভয়ই জটিল হয়ে পড়েছে।
প্রতিনিধিদল প্রস্তাব দিয়েছেন—বিশেষ নগদ সহায়তা ০.৩০% থেকে ১% এবং শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫% থেকে ২% করা। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য নগদ সহায়তা ৩% থেকে ৪% করার, প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭% নামানো, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং এ তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো আবেদন ঝুলে থাকবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট কমাতে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় দেওয়া হবে।
বৈঠকে আরও উঠে এসেছে, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে জমা স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি আয়ের নগদায়নে সমস্যার কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। গভর্নর এই বিষয় সমাধানের জন্য বিশেষ তদারকির আশ্বাস দিয়েছেন।
বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপগুলো পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করতে সহায়ক হবে।



