
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা আরিফিন শুভ। ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লাইভ মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ জ্যাজ সিটি ইতোমধ্যে ভারতে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষেও জায়গা করে নিয়েছে। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন ভারতীয় পরিচালক সৌমিক সেন, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিরিজে উঠে এসেছে সে সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের টানাপড়েন এবং পরিবর্তনের গল্প। ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিরিজটির নির্মাণ, ইতিহাসচেতনা এবং কাস্টিং নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন পরিচালক।
কলকাতায় বেড়ে ওঠা সৌমিক সেন জানান, জীবনের প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যে বাংলা ভাষার জন্য পালিত হয়, তা জানার পর তিনি বিস্মিত হন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পর্কে তার উদাসীনতা ছিল, যা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ‘বর্ডার’-এর মতো সিনেমা দেখেছি, যা মূলত ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পশ্চিম সীমান্তকে কেন্দ্র করে। কিন্তু পূর্ব সীমান্তে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে খুব কম কথাই বলা হয়েছে।” তার মতে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল একটি বৃহত্তর সংঘাতের অংশ, যার ফলেই একটি নতুন জাতির জন্ম হয় এবং এটি ভারতের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য।
কাস্টিং প্রসঙ্গে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন মুখ বেছে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সৌমিক সেন। তার ভাষায়, “এখানে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ততা এবং চমক তৈরি করা। নতুন মুখ হলে দর্শকের কোনো পূর্বধারণা থাকে না, ফলে তারা সহজেই চরিত্র হয়ে উঠতে পারে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রতীক গান্ধী-র ‘স্ক্যাম ১৯৯২’-এর কথা উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়ার পরও সিরিজটির প্রধান চরিত্রে একজন বাংলাদেশি অভিনেতাকে নেওয়ায় আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে আইপিএলে দুই দেশের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তবে এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান সৌমিক সেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপরায়ণ জাতি। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে সবাইকে স্বাগত জানানো হয়।”
তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তার মতে, দুই বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির যে অভিন্ন ঐতিহ্য রয়েছে, তা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে। সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাইলে অভিজ্ঞতাও অসাধারণ হয়ে ওঠে।
ভারতে অনেক মেধাবী অভিনেতা থাকা সত্ত্বেও কেন আরিফিন শুভকে বেছে নেওয়া হলো এ প্রশ্নের জবাবে সৌমিক সেন বলেন, “কেন নয়? আরিফিন শুভ একজন অভিনেতা, একজন তারকাও, এর উল্টোটা নয়। আমি অনেকের অডিশন নিয়েছি, সবাই ভালো। কিন্তু ‘জিমি রয়’ চরিত্রের জন্য আমার কাছে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প ছিল না।”
উল্লেখ্য, সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ‘জিমি রয়’ চরিত্রকে ঘিরে, যেখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এই সিরিজে বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি চারটি ভাষায় অভিনয় করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সনি লাইভে এটিই প্রথম কোনো বাংলা ভাষার সিরিজ হিসেবে নতুন এক মাইলফলকও গড়েছে।



