
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে বুধবার।
মামলার বাদী ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজরিয়া অরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার সঙ্গে জাহিদ অন্তুর পরিচয় গিটার শেখার মাধ্যমে। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় ব্যক্তিগত সম্পর্কের রূপ নেয়। অভিযোগ, এক পর্যায়ে তার অনিচ্ছায় জাহিদ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করেন, যা তিনি ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
অরা জানান, সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং জাহিদ অন্তু একপর্যায়ে সম্পর্ক অস্বীকার করতে শুরু করেন। পরে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি প্রোডাক্ট শুটের কথা বলে জাহিদের পক্ষ থেকে আবার যোগাযোগ করা হয়। বাদীর অভিযোগ, বাসায় যাওয়ার পর তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে আটকে রাখা এবং মারধর করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বারবার গলা চেপে ধরার, চুল টানার এবং থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে। দরজা বন্ধ থাকায় বের হওয়া কঠিন হয়, তবে শেষমেশ তিনি বের হতে সক্ষম হন।
মামলায় বলা হয়েছে, জাহিদের বাসায় একটি পণ্যের ফটোশুটের কথা থাকায় ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কথা হয় এবং বাসায় যেতে বলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি গুলশানের জাহিদের বাসায় যান। সেখানে শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। তিনি বাধা দিলে জাহিদ তাকে মারধর করেন। এতে তার মুখ, গলা ও মাথায় জখম হয় বলে অভিযোগ অরার।
এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



