নিজের আদর্শ বিসর্জন দিতে হবে এমন দেশে যাওয়ার দরকার নেই।
নিজের আদর্শ বিসর্জন দিতে হবে এমন দেশে যাওয়ার দরকার নেই। ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও লিড গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কমল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্বচ্ছন্দ প্রকাশ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিজের মানবিক অবস্থান বা আদর্শ বিসর্জন দিতে হবে এমন দেশে যাওয়ার কোনো দরকার তার নেই।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ পোস্টে কমল জানান, ২০২৪ সালে ব্যান্ডের ‘ফোরটি ইয়ার্স লিগ্যাসি কনসার্ট ট্যুর’-এর সময় তার ভিসা আবেদন মার্কিন দূতাবাস প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি মনে করেন, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই মূল কারণ। চলতি বছরের গ্রীষ্মেও ওয়ারফেজের যুক্তরাষ্ট্র সফর রয়েছে, কিন্তু সেখানে ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। কমল জানান, “যে দেশে যাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না, সেই দেশে আমার যাওয়ার দরকার নেই।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতিও তিক্ত। ১৯৯০ এর দশকে সেখানে পড়াশোনা করার সময় ১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তার একমাত্র ছোট ভাই আহমেদ ইসাক আবদুল্লাহ কনককে হারান। এই শোক সহ্য করতে না পেরে ১৯৯৮ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন এবং এরপর কখনোই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা রাখেননি।

২০২৪ সালে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “আমি যে আমেরিকা দেখে এসেছি, সেই আমেরিকা আর নেই। আমার কাছে সেখানে পড়াশোনা করার জন্য যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “আমেরিকায় শো করার কোনো দরকার নেই। আমি মানবতায় বিশ্বাসী। ওই দেশটি আমার জন্য অপয়া।”

নিজের সংগীত জীবন ও দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে কমল বলেছেন, তার গান মূলত বাংলাদেশি ও বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য। বিশ্বজয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার নেই; বরং দেশের মাটিতে থেকে সত্য কথা বলতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অটল থেকে তিনি তার বিশ্বাসের পথে অবিচল থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

সিমু/আরটিএনএন