গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ।
গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ।ছবি: আরটিএনএন

ট্টগ্রাম সিটি কলেজে ইসলামি ছাত্রশিবিরের স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে তা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা দুপুরের দিকে সহিংস ঘটনায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির।

গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সন্ধ্যায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের টানানো ব্যানার, ফেস্টুন ও দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতি) ছিঁড়ে ফেলা এবং মুছে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় গেটসংলগ্ন এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তার অভিযোগ, ছাত্রদলের ভাড়া করা বহিরাগতরা এই হামলায় অংশ নেয়। এতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কয়েকজন শিক্ষকও লাঞ্ছনার শিকার হন বলে জানান তিনি।

 

পরবর্তীতে বিকেলে হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবির একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে সেখানেও পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। সাদ্দাম বলেন, মিছিলের পেছন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছাত্রশিবিরের এক ওয়ার্ড সভাপতির পায়ের রগ কেটে গিয়ে গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল–শিবিরের সংঘর্ষের সময় কিরিচ হাতে দেখা যায় এক যুবককে।

 

ঘটনার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। 

কাওসার/এসএস