
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: গণভোট ও অধ্যাদেশ-ছাত্রনেতৃত্বের ভূমিকা’ শীর্ষক সংস্কার আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ডাকসু প্রাঙ্গণে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্ব শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং তা উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা চলবে না। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর ভুলের কারণে দেশ সংকটে পড়েছিল এবং বর্তমানেও সেই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জনমত উপেক্ষা করা হলে ছাত্রসমাজ আবার রাজপথে নামবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, সাম্প্রতিক গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই গণরায় বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের ছলচাতুরি না করার আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গণভোট জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। এই রায়কে অগ্রাহ্য করে কেউ স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। তিনি দাবি জানান, সংসদের চলতি অধিবেশনেই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। তিনি সবাইকে নিজেদের দায়িত্ব স্মরণ রেখে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতে হবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান বলেন, আন্দোলনের পর ছাত্রনেতারা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। তিনি আবারও ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, গণভোটে বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে জনগণ এটিকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই এর বাস্তবায়নে কোনো বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের রায়কে উপেক্ষা করলে ছাত্রসমাজ আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, গণভোটে প্রকাশিত জনমত অস্বীকার করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই এখন দ্বিচারিতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বিএনপির প্রতি তাদের ঘোষিত সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী কাজ করার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্যরা। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অভিন্নভাবে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ছাত্রসমাজ আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামবে।



