এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত হবে: শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা, এসএসসি, সমমান পরিক্ষা,
বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী।ছবি: সংগৃহীত।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি বলেছেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারা দেশে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কোনো পরীক্ষকের বিরুদ্ধে খাতা নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। মূল্যায়নে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, অবহেলা বা অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও অর্জনের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ যুগোপযোগীভাবে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পাবলিক পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও নকল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা যায়।

এ সময় তিনি অতীতের কিছু অনিয়মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে কৃত্রিম সাফল্য প্রদর্শনের প্রবণতা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের অনৈতিক চর্চা থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে এসে একটি জবাবদিহিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল্লাহ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনোজ্জামান রোকন, বিভাগীয় কমিশনার মিস ফারাহ শাম্মী, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং শিক্ষাখাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, অনুষ্ঠান চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে শিক্ষকনেতাদের অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে বিকেলে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনোজ্জামান রোকনের মধ্যস্থতায় নগর ভবনের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় দুই পক্ষের দীর্ঘ আলোচনার পর দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হয়।